ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
জীবিকার তাগিদে ফিরছে মানুষ চিকেনস নেকের নিরাপত্তা জোরদার করলো ভারত গৃহকর্মীকে মারধর চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে জিডি লাঙ্গলবন্দের বিশ ঘাটে স্নানোৎসবের আয়োজন ঈদযাত্রার সাতদিনে যমুনা সেতুতে দুই লাখ যান পারাপার ঈদের ছুটিতে খাবার কষ্টে ব্যাচেলররা এক লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা ফেরত নিতে সম্মত মিয়ানমার চেয়ারের দায়িত্ব বুঝে নিলেন প্রধান উপদেষ্টা দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা সরকারের অগ্রাধিকার সাতদিনে যৌথবাহিনীর অভিযানে গ্রেফতার ৩৪১ চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় অভিযানে গ্রেফতার ৩৯ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীর চাপ বাড়লেও নেই ভোগান্তি বিকল্প রিংবাঁধ সম্পন্ন লোকালয়ে ঢুকছে না পানি ঈদের পর কমেছে সবজি ও মুরগির দাম ভোটের মাধ্যমে সংসদে যেতে চান সারজিস হবিগঞ্জে ছাত্রদল-যুবদলের সংঘর্ষে আহত ২০ গাইবান্ধায় মাদকসহ মহিলা দল নেত্রী গ্রেফতার দক্ষিণ এশিয়ার ইসরায়েল ভারত চট্টগ্রামে বিএনপি নেতার মায়ের জানাজা শেষে দুই পক্ষের সংঘর্ষ প্রয়োজনে জোটগতভাবে নির্বাচন করবে এনসিপিÑ আতিক মুজাহিদ

​অপকর্ম করে এখনো অধরা কিছু বিএনপি নেতা

  • আপলোড সময় : ০৮-০৯-২০২৪ ১০:৪৫:৫৩ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৮-০৯-২০২৪ ১০:৪৫:৫৩ পূর্বাহ্ন
​অপকর্ম করে এখনো অধরা কিছু বিএনপি নেতা
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সারা দেশে শুরু হয় নৈরাজ্য ও সহিংসতা। যে কোনো মূল্যে দেশে সম্প্রীতি রক্ষা, লুটপাট, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব বন্ধসহ শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছে বিএনপি। দল কিংবা দলের নাম ব্যবহার করে অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এরই মধ্যে সারা দেশে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার কিংবা পদ স্থগিত করা হয়েছে। অনেককে করা হয়েছে শোকজও। এরমধ্যেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় অপকর্ম করে এখনও অধরা রয়েছেন বিএনপির কিছু নেতা।
বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, এখনও বিভিন্ন জেলায় চাঁদাবাজি, লুটের মতো ঘটনা ঘটছে। তবে আগের চেয়ে অনেক কম। চাঁদা দিতে রাজি না হলে হত্যা মামলার আসামি করারও ঘটনা ঘটছে। এমনকি জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় দফতরে আবেদন করা হলেও অদৃশ্য কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে কয়েকজন স্থানীয় পর্যায়ের নেতা অভিযোগ করেছেন। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের ফিরিস্তি জানিয়ে দফতরে ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন জানালেও কোনো প্রতিকার পাননি সেখানকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। ওই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়া হয়েছে আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে, এমনকি থানায়ও। ওই নেতার রোষানলে পড়েছে বৃহৎ রফতানিমুখী পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফকির গ্রুপও। এ গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ৫০ হাজারের মতো কর্মী রয়েছেন।
ফকির ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফকির কামরুজ্জামান নাহিদ বলেন, আমরা ব্যবসায়ী। আমাদের পরিবার কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম আজাদ প্রতিটি গার্মেন্ট থেকে চাঁদা চেয়েছেন। না দেয়ার কারণে ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন ও হয়রানি করার উদ্দেশ্যে আমাদের ফকির নিটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফকির আক্তারুজ্জামান ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফকির মাশরিকুজ্জামান নিয়াজ এবং আমাকে দুটি হত্যা মামলায় আসামি করেছেন। সবাইকে ভয় দেখিয়ে রেখেছেন, এমপি হলে কারখানা চালাতে দেবেন না। নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়ে রেখেছেন। চাঁদাবাজি, লুটতরাজসহ মিথ্যা মামলায় হয়রানির বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, বিজিএমইএ, বিকেএমইএসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের কাছে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি দিয়েছি। চলতি সপ্তাহে প্রধান উপদেষ্টার কাছেও দেয়া হবে।
 
আড়াইহাজারের কালাপাহারিয়া ইউনিয়নে সরকারি সফর আলী কলেজের সাবেক এজিএস ও আড়াইহাজার থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু হানিফ বলেন, ১৩ আগস্ট আমাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে আজাদের লোকজন। ডান হাতের চারটি রগ কেটে ফেলেছে। চাইনিজ কুড়াল দিয়ে বাম হাতে আটটি কোপ দিয়েছে। আজাদের নির্দেশে এই হামলা হয়। নিজ দলের লোকজন হামলা করবে কখনো ভাবিনি। অথচ বিস্তারিত বিএনপির কেন্দ্রীয় দফতরে চিঠি দিয়ে জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাইনি।
এদিকে গাজীপুরে তৈরি পোশাক কারখানার ঝুটসহ বিভিন্ন পরিত্যক্ত মালামালের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে বিএনপি নেতাদের নাম এলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে ওই জেলার একাধিক নেতা জানিয়েছেন। পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে দলের পক্ষ থেকে তাকে শোকজ করলেও থেমে নেই তার অপকর্ম।
এ নিয়ে ভুক্তভোগীরা সংবাদ সম্মেলনও করেছেন। কেন্দ্রীয় দফতরে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য চিঠিও দিয়েছেন। এ রকম আরও বিভিন্ন জেলার কিছু নেতার বিরুদ্ধে এখনও চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেলেও ভয়ে কেউ কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না।
জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, দলের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে এখন শুধু সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নেতাকর্মীদের ১৫ বছরের আত্মত্যাগ এবং কমিটমেন্ট কিছু ব্যক্তির অপকর্মের জন্য প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে না। তাদের দায় দল নেবে না।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স